যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং এ তারিখেই স্বাক্ষরের জন্য একটা অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটা আসার পর চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’ সচিবালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) কত শতাংশ হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কের হার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশে একই আছে। আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে। সে ধরনের একটা ধারণা আছে। তবে নিশ্চিত করে বলতে পারব না। খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটা নির্ধারণ করে ৯ তারিখের আগ পর্যন্ত সময় নিবেন।’
সম্প্রতি ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি এফটিএ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, এটা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করেছি ৪৫ বছর ধরে এবং আমরা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আমাদের আছে তৈরি পোশাক খাতে। এটা বুঝতে হবে—এখন এ সক্ষমতা আরেকজন রাতারাতি অর্জন করে ফেলেছে, এটা আমাদের কাছে মনে হয় না।’
এলডিসির পরে তো আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা হারাব। নতুন করে অনেক শুল্ক যুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে কি এফটিএর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে কিছু ভাবছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএর টোটাল নেগোসিয়েশন শেষ করেছি। ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষর করব। গত বৃহস্পতিবারে আমাদের সাউথ কোরিয়ার সাথে দ্বিতীয় দফা নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি এ বছরের মধ্যে তাদের সাথেও স্বাক্ষর হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএর জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব মার্কেটে আমরা এখন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই সবগুলোর কাছেই আমাদের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে এবং আমরা সেখানে আলোচনা সহসাই শুরু করব।’
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ক্রয়-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমাদের বিমান কেনার ব্যাপারটা তো আলোচনায় আছে। আমাদের বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ চুক্তির আগেও তাদের পরিকল্পনা ছিল। আমাদের সঙ্গে শুধু বোয়িংই না, আরো আলোচনা ছিল। বোয়িং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, কী দাম হবে, কনফিগারেশন কী হবে—এসব নিয়ে নেগোসিয়েশন চলছে।’
বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমানও আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘যুদ্ধবিমান এ চুক্তির আওতায় কখনই আসবে না। মিলিটারি ইস্যুটা কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।’
আসন্ন রমজানের প্রস্তুতির ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রমজানের বাজার নিয়ে এবং মূল্য, নিত্যপণ্য ও রমজান মাসভিত্তিক স্পেসিফিক যেসব পণ্যের বাজার ওঠানামা করে, সেগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।’